চট্টগ্রামের মরণ ফাঁদ মহেষখালের বাঁধ অপসারণ

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। চট্টগ্রাম মহানগরীর মরণ ফাঁদ খ্যাত মহেষখালের ওপর নির্মিত বাঁধ অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মাণের মাত্র দেড় বছরের মাথায় স্থানীয়দের দাবির মুখে মঙ্গলবার দুপুর থেকে আলোচিত এই বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। বাঁধ অপসারণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে উৎসুক হাজার হাজার জনতা ভিড় জমায়।
চট্টগ্রামের মরণ ফাঁদ মহেষখালের বাঁধ অপসারণ
অপসারণ কাজ শুরুর আগে সাংবাদিকদের সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনগণের দাবিতে এই বাঁধ দেয়া হয়েছিল। এখন আবার জনগণের দাবির প্রতি সম্মান রেখে তা অপসারণ করা হচ্ছে। এতে করে জনগণের সুফল না কুফল হবে তা বলতে পারবো না।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বন্দর অডিটোরিয়াম সংলগ্ন মহেষখালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ শুরুর সময় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন বন্দর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাঁধ নির্মাণের পূর্বে কোন প্ল্যান উপস্থাপন কিংবা এ সকল কর্মকাণ্ডে বিশেষজ্ঞ পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, বুয়েটের সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ কোন সংস্থার পরামর্শ ছাড়া তড়িঘড়ি বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বন্দরের নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। আগ্রাবাদসহ তৎসংলগ্ন এলাকার লোকজনের দাবি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অনুরোধে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। মঙ্গলবার বাঁধ ভাঙ্গার পূর্বেও মেয়র স্বীকার করেছেন যে, বাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন।

এদিকে বাঁধ নির্মাণের কেউ বিরোধিতা না করলেও সকলের বক্তব্য হলো সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে পানি বিশেষজ্ঞদের কোন প্রকার মতামত গ্রহণ ছাড়াই বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বাঁধ নির্মাণের কিছুদিনের মাথায় যারা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা এবং বাঁধের নিচের অংশের লোকজন অপসারণের দাবি জানাতে থাকে। ফলে দেড় বছর পর বাঁধটি অপসারণ করতে হলো। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মহেষখালের ওপর বাঁধ নির্মাণের ফলে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নগরীর আগ্রাবাদসহ তৎসংলগ্ন এলাকার লোকজন এক প্রকার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। নগরীর দক্ষিণ পশ্চিমাংশের কয়েকটি ওয়ার্ডের লোকজনকে সড়ক পারাপারে নৌকা পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছে। আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ির অনেক লোকজন পানির কারণে অন্যত্র চলে গেছে। এ সকল এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য এক প্রকার লাটে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মহেষখাল ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া মহেষখালের পাড় ও তার পাশ্ববর্তী উন্মুক্ত পুকুর, জলাধারসহ প্রাকৃতিক পানি রিজার্ভারগুলোতে অবকাঠামোসহ বাসা-বাড়ি গড়ে উঠায় স্বল্প বৃষ্টিতেই উপচে পড়া পানি বাসা-বাড়ি ছাড়াও মূল সড়কে ছেয়ে যায়। এতে করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
আবার কর্ণফুলী নদীর সাথে যুক্ত মহেষখাল দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে আগ্রাবাদ হালিশহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পানিতে প্লাবিত হয়। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এলাকার লোকজন তা থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। জোয়ারের পানি বন্দরের ভেতর দিয়ে চলে আসা মহেষখাল বেয়ে আগ্রাবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এ সমস্যা সমাধান লোকজন বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করতে থাকেন।
-ইত্তেফাক


এ বিভাগের আরো খবর...
বরিশালে কখন কোথায় ঈদ জামাত বরিশালে কখন কোথায় ঈদ জামাত
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার ঈদ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার ঈদ
বরিশালে অস্ত্রপচারকালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ বরিশালে অস্ত্রপচারকালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ
জাহাঁগিরিয়া দরবার শরীফ অনুসারীদের ঈদ পালন জাহাঁগিরিয়া দরবার শরীফ অনুসারীদের ঈদ পালন
কীর্তনখোলা-১ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল কীর্তনখোলা-১ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল
যাত্রীদের হামলায় কীর্তনখোলা-১ ভাঙচুর যাত্রীদের হামলায় কীর্তনখোলা-১ ভাঙচুর
সৌদি আরবে কাল ঈদ সৌদি আরবে কাল ঈদ
ভোলার ইলিশা ফেরীঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ ভোলার ইলিশা ফেরীঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ
লঞ্চে-বাসে প্রতিদিন আসছেন লক্ষাধিক যাত্রী লঞ্চে-বাসে প্রতিদিন আসছেন লক্ষাধিক যাত্রী

চট্টগ্রামের মরণ ফাঁদ মহেষখালের বাঁধ অপসারণ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)