আর নয় অকারণ অন্ধত্ব

,

বরিশালে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের অনুষ্ঠানে ‘আর নয় অকারণ অন্ধত্ব’ স্লোগান মেনে
চোখের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহবান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বরিশাল ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডস্থ স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রবিবার সকাল ১০টায় বরিশাল সিভিল সার্জন আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তারা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন অমলেন্দু বিশ্বাস।
এরআগে সকাল নয়টায় সিভিল সার্জন অফিস থেকে স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড পর্যন্ত র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে অংশ নেন বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান ।
প্রধান অতিথি বলেন আমরা অকারণ অন্ধত্বও নয়, সকারণ অন্ধত্বও চাই না। অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় চোখ। কেউ কেউ পৃথিবীতে এসে কিছু দেখতে পায় না। কেউ কেউ পৃথিবীতে আসার পর অনেক কিছু দেখার পর এক সময় আর দেখতে পায় না। তার দুঃখ সবচেয়ে বেশি। তাই চোখের প্রতি যত্নবান হতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে কন্ট্রোল করতে হবে। অন্ধ ব্যক্তি নিজের এবং সমাজের বোঝা। বয়স বাড়লে ডায়াবেটিস, চোখে ছানি দেখা দেয়। গর্ভবতী মা যদি হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হয় তাহলে তার শিশু অন্ধ হয়ে জন্ম নেয়। তাই সময় থাকতেই সকলকে নিজের প্রতি এবং আশে পাশের মানুষজনের প্রতি খেয়াল করতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামি চক্ষু হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. ভবেস চন্দ্র রায়। তিনি জানান, ৪০ বছরের পর চোখে এক ধরণের সমস্যা দেখা দেয় মাঝে মাঝে মাথা ব্যাথা ছাড়া কোন লক্ষণ দেখা যায় না কিন্ত ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি কমে আসে। তিনি বলেন, সারা দেশের সবাই সচেতন হলে ২০২০ সালের মধ্যে আমরা চোখের ছানির সমস্যা দূর করতে পারব। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল ব্রাক স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচী এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, অবহেলায় যেন আমাদের কারো দৃষ্টি নষ্ট না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
সভার সভাপতি ছিলেন ডা. মিজানুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউএইস এন্ড এফপিও)। এই সুন্দর পৃথিবী আমিও দেখতে চাই বলে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন দেশে সাড়ে সাত লক্ষ লোক চোখের সমস্যায় ভূগছে। ৪০ হাজার শিশু অন্ধত্ব বরণ করেছে। তিন লক্ষ শিশু চোখের সমস্যায় ভূগছে যার চিকিৎসা সম্ভব। তিন ভাগের এক ভাগ আমরা ছানি অপারেশন করতে পারি। দৃষ্টি শক্তি আমাদের সকলের অধিকার। আমরা যেন উদ্বুদ্ধ করি , যেন সহযোগিতা করি পাশের ব্যক্তিকে। সবাই যেন দেখতে পাই এই আশা ব্যক্ত করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

পাঠকের মন্তব্য


মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।

পাতার শুরুতে