ঈদ মুবারক

৪ গুন রেটে ইজারা নিয়ে

,

বরিশাল ঘাটে অলস বসে আছে বিআইডব্লিউটিসি’র উপকুলীয় জাহাজ সী-ট্রাক এসটি খিজির-৮।  স্টাফ রিপোর্টার।। কোন শাস্তি কিংবা ফাইনের ব্যবস্থা না থাকায় সী -ট্রাক ইজারাদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে উপকুলীয় অঞ্চলের যাত্রীরা। বিআইডবিব্লউটিসি’র অব্যবস্থাপনার অজুহাত তুলে ইচ্ছেমতো তারা সী ট্রাক বন্ধ করে দিচ্ছে। আর ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে বরিশাল-লক্ষীপুর ভায়া ভোলা রুটকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এ সময় এরুটে লঞ্চ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সী সার্ভে অনুযায়ী ওই রুটে একমাত্র সী-ট্রাক চলাচল করতে পারে। সে হিসেবে প্রতি এক বছরের জন্য উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে সী-ট্রাক ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ মাস চলাচল করার পর তারা আর ওই রুটে সী-ট্রাক চালাবে না বলে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেয় এবং ১৬ অক্টোবর থেকে তারা সী-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়। More… এ ব্যাপারে বিআইডবিব্লউটিসি’র সহকারী মহা ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) গোপাল চন্দ্র মজুমদার জানান, গত মাসের রয়ালিটির পুরো টাকা বুঝে না পাওয়ায় আমরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সী-ট্রাক বুঝে নেইনি। নোটিশ অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় আছে। ইজারাদার সী-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিলেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারী ব্যবস্থাপনায় কীভাবে সী- ট্রাক চালানো যায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ইজারাদারের সী-ট্রাক চালানোর অপরাগতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যাতে ইজারা নিতে না পারে একারনে গত টেন্ডারে ৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দর ডাকে মেসার্স স্বর্না এন্টারপ্রাইজ । দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরও ছিল তাদের। অথচ এর আগের টেন্ডারে একই ইজারাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্বর্না এন্টারপ্রাইজ মাত্র ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় সী ট্রাক ইজারা নেয়। বিআইডবিব্লউটিসির সহকারী মহা ব্যবস্থাপক এর সত্যতা স্বীকার করে জানান ,এটা ‘অবিশ্বাস্য রেট’। এত দর আর কখনও ওঠেনি। যদিও সরকারের এতে অনেক লাভ হয়েছে। ডিজিএম মো. নাসিম শেখ জানান ওই টেন্ডারে ৫/৬ জন অংশগ্রহন করেছিলেন। বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, ডেঞ্জার পিরিয়ডে একচেটিয়া লাভ করেছে মেসার্স স্বর্না এন্টারপ্রাইজ । ১৬ অক্টোবর থেকে ওই রুটে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি থাকায় তারা ইজারা বাতিলের নোটিশ দেয়। এ ব্যাপারে মেসার্স স্বর্না এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর এনায়েত চৌধুরী মিল্টন আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ২ বছর ধরে আমি সী-ট্রাকটি চালাচ্ছি তবে এখন বিআইডবিব্লউটিসির চরম অব্যবস্থাপনার কারনে সী ট্রাক না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও জানান, বরিশাল ডকইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের কোন কাজ হয়না ফলে মেরামত করতে হলে নারায়নগঞ্জ যেতে হয়। আর নারায়নগঞ্জ পাঠালে ২ থেকে ৩ মাস সময় লেগে যায়। তারপরও কাজের কাজের কিছুই হয়না। খিজির-৮ অনেক পুরাতন জাহাজ হওয়ায় প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হয় ও নব্যতা সংকটের কারনে প্রায়ই ইঞ্জিনের পাখা ভেঙ্গে যাওয়ায় লোকসানের পরিমান বেড়ে যায়।

পাঠকের মন্তব্য


মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।

পাতার শুরুতে