শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত ছাত্রী হাসপাতালে

,

পিরোজপুর প্রতিনিধি ।। শিক্ষকের বেত্রাঘাতে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের ভান্ডরিয়া উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের পৈকখালী মোমিনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায়। ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী নুরুন্নেছার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ভাণ্ডারিয়া হাসপাতাল থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নুরুন্নেছার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি ক্লাস চলাকালে শ্রেণীকক্ষে যথাযথভাবে লিখতে না পারায় শিক্ষক মাসুদুজ্জামান নুরুন্নেছাকে বেত্রাঘাত করেন। এতে শরীরে জ্বর এসে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের বেত্রাঘাতের কথা বলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাকে ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে নুরুন্নেছার বাবা বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা শিক্ষক মাসুদুজ্জামানকে ওই শিক্ষার্থীর চিকিত্সার ব্যয় বাবদ তিন হাজার টাকা দিতে বলেন। এরপর শিক্ষক মাসুদুজ্জামান নুরুন্নেছার বাবাকে তিন হাজার টাকা প্রদান করেন। নুরুন্নেছা জানায়, যথাযথভাবে লিখতে না পারায় ইংরেজি শিক্ষক বেত দিয়ে তার হাঁটুতে আঘাত করেন। এরপর তার প্রচণ্ড জ্বর আসে এবং হাঁটতে কষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে শিক্ষক মাসুদুজ্জামান বলেন, নুরুন্নেছা আগে থেকেই মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ত। তাকে বেত দিয়ে একটু আঘাত করা হয়েছে। অন্য কোনো রোগ না থাকলে এতে তার অসুস্থ হওয়ার কথা নয়। তারপরও তিনি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করছেন।
ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালের চিকিত্সক ডাক্তার ইখতিয়ার হোসেন জানান, নুরুন্নেছার হাঁটুতে পানি জমে ইনফেকশন হয়েছে। এই ইনফেকশন বেতের আঘাতে কিংবা আগের কোনো আঘাতের কারণেও হয়ে থাকতে পারে। কয়েক দিন চিকিত্সার পরও তার অবস্থার উন্নতি না ঘটায় তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়।

পাঠকের মন্তব্য


মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।

পাতার শুরুতে