বরিশালে ২৬ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

,

ষ্টাফ রিপোর্টার,১৫ আগষ্ট।। বরিশালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি প্রবল হওয়ার পর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা তৈরীর নির্দেশ দেয় সরকার। দুই প্রশাসনের সমন্বিত এই কার্যক্রমে সহায়তা করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এ তালিকায় সমাজের নামি দামী লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং যুদ্ধাপরাধী পিতাদের সন্তান আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে এখন হুলুস্থুল চারিদিকে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রাজনৈতিক নেতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সংগৃহিত হয় তথ্য। পরবর্তীতে যাচাই বাছাই শেষে তৈরী হয় প্রাথমিক তালিকা। বরিশালেও কাজটি শেষ করেছে প্রশাসন। তালিকায় ঠাই পেয়েছে ২৬ জনের নাম। এদের মধ্যে ২৫ জনই ছিলেন শান্তি কমিটির নেতা। কমিটির বাইরে থাকা একমাত্র ব্যক্তি হলেন প্রবীন দন্ত্য চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান। বর্তমানে নগরীতে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সভা সমাবেশেও থাকেন সামনের সাড়িতে। তার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার প্রমান পেয়েছে প্রশাসন। এই সংক্রান্ত দলিল দস্তাবেজ সংগ্রহ করেছে তারা।
এ ব্যাপারে ডা. হাবিবুর রহমান বক্ত্যব্য , ‘কিভাবে আমার নাম এসেছে বুঝতে পারছিনা। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অনেকের জীবন বাঁচিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও দিয়েছি নানা সহায়তা। বিষয়টি কোন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।’
একই রকম প্রমান মিলেছে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ্য গোলাম মাওলার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এরকম কোন কিছু করার ইতিহাস তার নেই। হয়তো কেউ শত্রুতা করে অপ-প্রচার চালাচ্ছে।’
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের দলিল খন্ড-পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য এবং ওয়েব সাইটে এক মুক্তিযোদ্ধার দেয়া তথ্য থেকে প্রাথমিক তালিকা হয়েছে। পরবর্তীতে চালানো হয় ব্যাপক তথ্যানুসন্ধান। সেই সন্ধান থেকেই চুড়ান্ত হয় ২৬ জনের নাম। চলতি সপ্তাহে এই তালিকা ঢাকায় পাঠাবো আমরা।’
৭১’এ শান্তি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোন প্রমান না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মন্তব্য


মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।

পাতার শুরুতে