বরিশালে ফায়ারিং স্কোয়াডে ১৭ এপ্রিল মৃত্যুদন্ড হয়েছিল এক পাকিস্তানীর

,

স্টাফ রিপোর্টার।।বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বরিশালে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল আসলাম নামের এক অবাঙ্গালী পাকিস্তানীর । আসলাম খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক আয়ুউব উর রহমান এবং পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব খন্দকারকে বহনকারী বিশেষ জাহাজের চালক ছিলেন। ঢাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্মেলনে যাওয়ার পথে ১০ এপ্রিল বরিশালের ত্রিশ গোডাউন জেটির কাছে কীর্তনখোলা নদীতে মুক্তিযোদ্ধারা চ্যালেঞ্জ করে ওই জাহাজ থামাতে বাধ্য করে। রেজাই সাত্তার ফারুকের (গনসা ফারুক) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করে । পরে ডিসি লঞ্চঘাট থেকে তাদের সরাসরি জেলে পাঠান হয়। বরিশালে স্থাপিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিচার বিভাগের দায়িত্ব পাওয়া এডভোকেট আমিনুল হক চৌধুরী এ ঘটনা নিয়ে জেলা জজের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১৬ এপ্রিল বিচারের দিন ধার্য হয়। বরিশাল জেল অভ্যন্তরে বসে গন আদালত। সেই আদালতে জেলা প্রশাসক আয়ুউব উর রহমান এবং পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব খন্দকার বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। কিন্তু আসলাম বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। শুনানী শেষে বিচারক এডভোকেট আমিনুল হক চৌধুরী ফায়ারিং স্কোয়াডে আসলামের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করেন। ১৭ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০টায় চাদঁমারির রাইফেল ক্লাবের ফায়ারিং রেঞ্জে তা কার্যকর করার ঘোষনা দেওয়া হয়। সেদিন সকাল থেকে ওই পাকিস্তারীর মৃত্যুদন্ড দেখতে হাজার হাজার লোক জড়ো হয় সেখানে। মেজর জলিলের নিদের্শে ১০ সদস্যের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড দল সে রায় কার্যকর করে।ওই দিনই মুসলিম গোরস্থানে আসলামকে দাফনের জন্য লাশ আঞ্জুমান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে