বরিশাল ও রংপুর অঞ্চলে ৫শ’ কোটি টাকার আইএপি প্রজেক্ট

,

বরিশাল নিউজ।। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বরিশাল ও ক্ষরা পীড়িত রংপুরের ৮ জেলার জন্য ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট (আইএপিপি) গ্রহন করেছে সরকার। ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা । দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বলে জানান প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কৃষিবিদগন।
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলা এবং রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট,নীলফামারী ও রংপুর জেলাকে এর অনর্-ভুক্ত করে ২ টি অঞ্চল গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাড়ে ৩ লাখ লোক সরাসরি উপকারভোগী হবেন বলে জানান আইএপিপি’র উপ প্রকল্প পরিচালক মো. হেমায়েত উদ্দিন । এদের মধ্যে নারী উপকারভোগী হবেন ২৫ ভাগ। এছাড়াও প্রযুক্তি, প্রশিক্ষন এবং অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন কৃষক এবং কর্মকর্তারাও।
গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি নিয়ে কর্মকর্তারা মাঠে নামলেও অর্থের ছাড় এসেছে গত এপ্রিলে। এই ৫শ কোটি টাকার মধ্যে ১২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিবে বাংলাদেশ সরকার। বাকি ৩৭০ টাকা আসবে ইউএসএ,কানাডা,দক্ষিণ কোরিয়া,বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর অনুদানে গঠিত ‘গ্লোবাল এগ্রিকালচার এন্ড ফুড সিকিউরিটি প্রগ্রাম ট্রাস্ট ফান্ড’ থেকে।
বরিশাল অঞ্চলের প্রকল্প ব্যবস্তাপক এসএম কামাল উদ্দিন জানান,সামুদ্রিক জলোচ্ছাস এবং মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার কারনে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপর দিকে উত্তরাঞ্চল আকষ্মিক বন্যা ও খড়ার শিকার। এ কারনে তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশের সাথে খাপ খাওয়া জাত উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন, বিদ্যমান ও লভ্য জাতসমূহের চাষে লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। কৃষির অন্যান্য উপখাত ফসল, মৎস ও প্রানিসম্পদ এর এমন সমন্বয় এর আগে দেশে আর হয়নি বলে জানান আইএপিপি’র উপ প্রকল্প পরিচালক মো. হেমায়েত উদ্দিন। এই তিন উপখাতের কর্মকর্তা , কৃষক, মৎস্য চাষি ও গো-খামারীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশালে। সেখানে কৃষকরা এমন উদ্দ্যেগ নেয়ার ঘটনায় খুবই খুশি। তারা এর সঠিক বাস্তবায়নের জন্য তৃনমূল পর্যায়ে নজরদারী করার দাবি জানান। ওই কর্মশালায় অংশ নেওয়া মুলাদীর মৎস্য খামারী মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান বলেন, তিনি মুলাদী সদর উপজেলায় ২৫ টি পুকুর মালিককে এ প্রকল্পের আওতায় এনেছেন। তিনি নিজে ৪টি পুকরে মাছের পোনা করেছেন। এখন অন্যগুলোতে তা বিতরন করা হবে। এতদিন টাকার অভাবে তারা মাছ চাষ করতে পারেননি বলেন তিনি। এ প্রকল্পের সুবিধা একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে দেওয়া হবে শুনে কৃষকরা আশায় বুক বেধেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাড়াতে পারবেন শুধু তাই নয়, লাগসই প্রযুক্তি পেয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন দিনভর কর্মশালা শেষে এমন আশ্বস্ত হয়েছেন তারা।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে