শাওন ও মাজহারের বিরুদ্ধে হুমায়ুন আহমেদ হত্যা মামলা

,

শাওন , মাজহার, হুমায়ুন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও অন্যপ্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে মামলা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী বুধবার সকালে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম নিজামুল হকের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য মহানগর হাকিম এবিএম নিজামুল হক।
বাদীর আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, “এতে পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।”
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কথা উল্লেখ করে মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, অপারেশনের পর গত ১৭ জুলাই হুমায়ূন আহমেদ তার আমেরিকার ভাড়া বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে গেলে তার সেলাই খুলে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্ত্রী শাওন যে হাসপাতালে অপারেশন হয়েছিল সেই বেলভ্যু হাসপাতালে না নিয়ে পরদিন অখ্যাত জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শাওন ও মাজহার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিলারের কাছে হুমায়ূনের চেয়ার থেকে পড়ে যাবার ঘটনা সম্পূর্ণ চেপে যান।
এর আগে হুমায়ূন আহমেদ সুস্থ হয়ে বেলভ্যু হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসার পর ১২ জুলাই সন্ধ্যায় শাওন ও মাজহার আমেরিকার ভাড়া বাসায় একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে অসুস্থ ক্যান্সার আক্রান্ত হুমায়ূনকে মাংস ও পানীয় খেতে দেন শাওন ও মাজহার।
এছাড়া অপারেশনের সময় মাজহার ও শাওন দু’ঘন্টা হাসপাতালে না থেকে অজ্ঞাতস্থানে ছিলেন। অর্থাভাবে অপারেশন বিলম্ব হওয়ার কথা শাওন প্রচার করলেও প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের প্রস্তাব দিলেও শাওন সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ হাজার ডলারের চেক জোর করে হুমায়ূন আহমেদের হাতে দেন।
কিন্তু পরে শাওন প্রচার করেন, অর্থাভাবে হুমায়ূন আহমেদকে বিশ্ববিখ্যাত স্লোয়ান মেমোরিয়াল ক্যাটারিং ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। অথচ ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে শতভাগ সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন।
১৭ জুলাই ও ১৮ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ফোন করে হুমায়ূনের শারিরীক অবস্থার কথা জানতে চাইলে শাওন ও মাজহার তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখার কথা গোপন করেন।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাদির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, শাওন ও মাজহার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও নগদ টাকা যা শাওনের কাছে গচ্ছিত ছিল, তা আত্মসাৎ করার জন্য এবং মাজহারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দায়সারাভাবে চিকিৎসা করিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে হুমায়ূন আহমেদকে হত্যা করেছেন। এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক জঘন্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে তিনজনকে। এরা হচ্ছেন- ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশের বার্তা সম্পাদক, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক এবং কবি-লেখক আবদুল হাই শিকদার।
গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন আহমেদ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জীবাণু সংক্রমণে (ইনফেকশন) মারা যান। শাওনের ইচ্ছায় ২৪ জুলাই তাকে দাফন করা হয় গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে