জুমাতুল বিদা আজ

,

বরকতপূর্ণ এ মাসের বিদায়ী জুমা আজ। ফজিলত, মর্যাদা ও পুণ্যবিভায় অনন্য আজকের এই দিনটি। শুক্রবারের দিনটি এমনিতেই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্যোদয়ের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। এই দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে; এই দিনে তাকে বেহেশতে প্রবিষ্ট করা হয়েছে এবং এই দিনেই তিনি বেহেশত থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়েছেন। আর কেয়ামত সংঘটিত হবে এই শুক্রবারই। [মুসলিমের সূত্রে আলফিয়াতুল হাদিস_হাদিস ৪২১] অন্য হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান বান্দা যে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে আল্লাহতায়ালা তাকে তা দান করেন। [বুখারী ও মুসলিমের সূত্রে_ ঐ হাদিস :৪২২]
উদ্ধৃত হাদিস দুটি থেকে আমরা সহজেই এই দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারি। তাই এই দিনের প্রতি অবহেলার কোনো অবকাশ নেই। যারা জুমার দিনে জুমার নামাজের প্রতি অবহেলা করে, তাদের উদ্দেশে কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে হাদিসের পাতায়। হজরত আবুল জা’দ যামরী (রা.) বলেন_ হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিনটি জুমা (পর পর) বর্জন করবে, আল্লাহতায়ালা তার অন্তরের ওপর মোহর এঁটে দেবেন। [আবু দাউদ তিরমিযী ও নাসাঈর সূত্রে_ ঐ, হাদিস ৪২৫]
এই হলো স্বাভাবিক জুমা বারের মর্যাদা। হাদিসের কথায় আমরা এও বুঝতে পেরেছি_ এই মর্যাদার মূল উৎস জুমার নামাজ। তাছাড়া এও জানি, রমজান মাসের সব রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির পেছনে রয়েছে রোজা, তারাবি ও শবেকদরের রাত জেগে সম্পাদিত এবাদত-বন্দেগি। আজকের এই শুক্রবারের অনন্যতা এইখানেই_ জুমা, রোজা, তারাবিসহ এমন একটি বরকত ও কল্যাণপূর্ণ শুক্রবার পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক বছর। আজকের এই একটি শুক্রবারের এবাদত-বন্দেগি বছরের অন্য যে কোনো শুক্রবারের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি মর্যাদার অধিকারী। পূর্ণ যত্ন, সতর্কতা ও উদ্যমতার সঙ্গে এই একটি দিন যদি কোনো ইমানদার বান্দা এবাদত করতে পারেন, তবে সত্তরটি শুক্রবার এবাদতে কাটাবার পুণ্যলাভে ধন্য হবেন। এই প্রাপ্তি অসামান্য।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে