বরিশালের হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ

,

বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ ১৯১৩ সালে বরিশাল শহরের গীর্জামহল্লা রোডের খাস জমিতে স্থাপন করা হয় আসমত আলী খান ইনষ্টিটিউশন (একে স্কুল)। তখন ওই স্কুলের কোন খেলার মাঠ ছিল না। এর কয়েক বছর পর কীর্তনখোলা নদীর পারে আরও প্রায় সাড়ে ৩ একর খাস জমি লীজ নিয়ে গড়ে তোলা হয় একে স্কুলের খেলার মাঠ। আর এসবের পিছনে মূল উদ্যোগ ছিল তৎকালীন বরিশাল মুসলিম জাগরনের নেতা আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এর। বন্ধু ইসমাইল খান চৌধুরীর সহায়তায় বন্ধুর বাবার নামে তিনি গড়ে তোলেন একে ইন্সটিটিউশন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠান তার উদ্যোগে স্থাপিত হয়। দু’বার তিনি জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। জনসেবার স্বীকৃতি স্বরুপ সরকার ১৯১১ সালে হেমায়েত উদ্দিনকে খান বাহাদুর উপাধি দেন। ১৯৪১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর নগরীর গীর্জামহল্লা রোড এবং একে স্কুলের খেলার মাঠটিকে তার নামে নামকরন করা হয়।
বরিশালে তখন স্টেডিয়াম ছিলনা। হেমায়েত উদ্দিন খেলার মাঠে হতো সব ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। পরে এসব প্রতিযোগিতা বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) স্থানান্তর করা হলে খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এছাড়াও একে স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠও তৈরী হয়।
এ অবস্থায় ১৯৮৪ সালে বরিশালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এমএ আজিজ হেমায়েতউদ্দিন খেলার মাঠের প্রায় এক একর জমিকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে রুপান্তর করেন । এরপর গত ২৭ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সেখানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় । ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহের ব্যাপক উন্নয়ন করে আধুনিক ঈদগাহের রুপ দেওয়া হয় ।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এ বছর (২০১২ সালে) প্রথম কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতর জামাতের আয়োজন করা হয়।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে