সাগর-রুনি হত্যা: আলামত থেকে এক জনের ডিএনএ শনাক্ত

,

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরীক্ষাগারে সাংবাদিক মেহেরুন রুনির টি-শার্ট থেকে সংগৃহীত উপাদান পরীক্ষা করে এক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ-বৃত্তান্ত (প্রোফাইল) পাওয়া গেছে। এ তথ্য পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ র‌্যাব সন্দেহ করছে, এটি খুনির ডিএনএ হতে পারে।
র‌্যাব জানায়, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মৃতদেহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাসায়নিক ও একটি ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। তবে রুনির সংশ্লিষ্ট আলামতগুলোর পরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সাগরের সংশ্লিষ্ট আলামতগুলোর পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাসায়নিক ও একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসার পর খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামবে র‌্যাব।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ১২ জুন প্রথম দফায় পাঠানো হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি ছুরি, ছুরির বাঁট, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, রুনির পরনের প্যান্ট ও অন্য কাপড়ের নমুনা। গত ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাঠানো হয় হত্যাকাণ্ডের সময় যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল, সেই কাপড় এবং রুনির টি-শার্ট।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে, বেশির ভাগ নমুনাতেই একাধিক ব্যক্তির ছাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রুনির টি-শার্ট থেকে একজনের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের সময় যে ধস্তাধস্তি হয়েছে, তাতেই রুনির টি-শার্টে ওই ব্যক্তির চুল ও হাতের ছাপ লেগে যায়। সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল যে কাপড় দিয়ে, তার নমুনা থেকে অন্য কারও ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
উচ্চ আদালত থেকে র‌্যাবকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য দুজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ভিসেরা পরীক্ষায় সাগর-রুনির শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি।
তদন্ত শুরুর পর এখনো এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত পর্যায়ে ৪০ জনকে এবং র‌্যাব এখন পর্যন্ত ৯৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।

পাতার শুরুতে