নগরীতে ১টি পুকুর নিয়ে তোলপাড়
১২ ভাদ্র ১৪১৯, Monday, August 27, 2012 || স্টাফ রিপোর্টার ||
নগরীর ঝাউতলার দ্বিতীয় গলির মন্দির সংলগ্ন ব্যবহার অনুপোযোগী একটি পুকুর নিয়ে নগরীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।পুকুরের মালিকানা দাবি করে পত্রিকায় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিতরন, মানবন্ধন কর্মসূচী, স্মারকলিপি প্রদানের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে থানা-পুলিশ -প্রশাসন সবাই আছে উদ্বিগ্ন।
গত ১৫ আজস্ট জমির মালিক বলে দাবিদাররা বালি ফেলে পুকুরটি ভরাট শুরু করে। এ ঘটনার পর পরিবেশবাদী কর্মীরাও পুকুর পরিস্কারের কাজ হাতে নেয়।তৎক্ষনাত করে মানববন্ধন। পরে পুলিশ গিয়ে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়। পুকুর ভরাট বন্ধের দাবিতে সিটি মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পুকুর ভরাটের প্রতিবাদ ও রক্ষার দাবিতে আজ সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করার উদ্যোগ নিয়েছেন ওই এলাকার অধিবাসীরা। বিকেল ৫টায় অমৃতলাল দে সড়কে এ কর্মসূচী পালন করা হবে। পুকুরটি রক্ষার জন্য এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতজন নিখিল সেনকে প্রধান উপদেষ্টা করে ১৫৬ সদস্য বিশিস্ট ‘ঝাউতলা ২য় গলির প্রাচীন পুকুর রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটি গঠন’ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে লিফলেট বিতরন করা হয়। লিফলেটে দাবি করা হয়েছে, জমিদার ধীরেন্দ্র নাথ রায় শত বছর আগে জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য পুকুরটি দলিল করে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জনৈকা শিরিন রহমান নিজেকে ওই পুকুরের মালিক দাবি করেন। তারা এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে পুকুরের পানি দূষন রোধে সকল পয়ঃনিষ্কাষন লাইন বন্ধ করে পানি ব্যবহার উপযোগী করে পুকুরের দায়দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে নেয়ার দাবি জানান।
এদিকে পুকুরের মালিক আকবর হোসেন গং গত ২ দিন ধরে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলছেন, ১৯৫৩ সালে নিলাম খরিদ সূত্রে পুকুরের মালিক ছিলেন বিজন বালা রায়। তার কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে বিভিন্ন হাত হয়ে ২০০৭ সালে তিনি ওই জমির মালিক হন। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেন তিনি। আকবর হোসেন আরও জানান, ওই পুকুরে বহুবার মাছ চাষের চেস্টা করেও সফল হননি তিনি। গত ১০ বছর ধরে পুকুরের আশেপাশের লোকজন পাইপলাইনে মল-মূত্র, আবর্জনা ফেলে পুকুরটিকে ব্যবহার অনুপোযোগী করে ফেলে। এ কারনে কচুরীপানায় ভর্তি, দুগর্ন্ধযুক্ত পুকুরটি তিনি নিয়ম মেনে ভরাট করছেন। ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর ভরাটে সরকারি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন তাদের হয়রানি করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিজ্ঞাপনে পরিবেশবাদীদের এক হাত নিয়ে বলা হয়, সামপ্রতিককালে নগরীর প্রায় অর্ধশত পুকুর ভরাট হলেও তারা তা ঠেকাতে পারেনি।




মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।