বরিশালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ - মেয়র হিরন

,

মেয়র শওকত হোসেন হিরন‘বরিশাল নগরীতে ফেনসিডিল, গাজাঁ, ইয়াবা সহজলভ্য পণ্য হয়ে উঠেছে। অলিতেগলিতে ছড়িয়ে পরেছে এর ক্রেতা ও বিক্রেতা। এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা সব রাঘববোয়াল। পুলিশ ইচ্ছে করলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এসব বন্ধ করতে পারে, কিন্তু তা না করে পুলিশ তাদের সেল্টার দিচ্ছে এবং নিজেরাও জড়িয়ে পরেছে মাদক ব্যবসায়।’ এসব অভিযোগ এতদিন ছিল ভুক্তভোগীসহ নগরবাসীর। এবার উচ্চারন করলেন বরিশালের সিটি মেয়র নিজে।
মাদক মুক্ত সুন্দর নগরী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বৃহস্পতিবার অশ্বিনী কুমার টাউন হলে সিটি কর্পোরেশন আয়োজন করে মতবিনিময় সভা। মেয়র শওকত হোসেন হিরন সেখানে সভাপতিত্ব করেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া সভা শেষ হয় বেলা দেড়টায়। বক্তৃতা করেন ২৭ জন। নগরী মাদকে ছেয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় সবার অভিযোগের তীর ছিল রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর।
‘মাদক ব্যবসার সাথে রাজনৈতিক দলের বড় বড় নেতা এবং নগরীর প্রভাবশালীরা জড়িত’ সরাসরি বললেন মেয়র শওকত হোসেন হিরন। মেয়র বলেন ‘আমরা রাজনীতিবিদরা এটা বন্ধ করতে পারবো না। কারন আমাদের লজ্জা কম। নগরীতে মাদকের যে অবস্থা অন্য দেশ হলে মেয়র পদত্যাগ করতো।’
তিনি বলেন, নগরীতে কারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তা পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে মেয়র পর্যন্ত সবাই জানেন। তিনি এর সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সরাসরি জড়িত অভিযোগ করে বলেন,এ জন্য সোর্স রয়েছে। মাদকের টাকা পুলিশের বড় বড় কর্মকর্তাদের কীভাবে পৌছেঁ দিতে হয় নাম না বলে এক ওসির বরাত দিয়ে তিনি তা জানান। এজন্যই সোর্স কাজ করে এবং প্রত্যেক সোর্স মাদকের সাথে জড়িত বলেন তিনি। মেয়র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন সোর্স প্রত্যাহার করুন নইলে আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নগরীতে মাদকাসক্ত এক কিশোরের গুলিতে আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে মেয়র বলেন আমি ওর জন্ম দেখেছি। আবার আমার চোখের সামনে হাসপাতালে ওর মৃত্যু দেখতে হলো। এর চেয়ে কস্টকর আর কী আছে। তিনি মাদকাসক্ত সন্তানের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন , ‘আপনারা লজ্জা ত্যাগ করে বলুন আমার সন্তান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাকে বাচঁতে সাহায্য করুন।’
মতবিনিময় সভায় মেয়রের কাছে নগরীকে মাদক মুক্ত নগরী ঘোষনার দাবি জানান বক্তারা । জবাবে মেয়র বলেন, এখনই নয়। এ নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সমাবেশ করতে হবে। কমিটি করতে হবে। প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের সাথে বসতে হবে আগে।
সভায় অংশ নেন তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, শিক্ষাবিদ মো. হানিফ, সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড.ননী গোপাল দাস,ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন-উল-ইসলাম হাবুল, প্যানেল মেয়র আয়েশা তৌহিদ লুনা, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আনিস, সাংবাদিক এস এম ইকবাল, কাউন্সিলর আকতারুজ্জামান হিরু প্রমূখ।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে