বরিশালসহ ৭ সেফহোমের মানোন্নয়নে সরকারের প্রকল্প গ্রহন
২৮ ভাদ্র ১৪১৯, Wednesday, September 12, 2012 || স্টাফ রিপোর্টার ||দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে সেফহোমে থাকা শিশু, কিশোরী ও নারী হেফাজতীদের সেবার মান বাড়াতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বরিশালে এ প্রকল্পটি শুরু হয়েছে ২ মাস আগে। ১৪ মাস মেয়াদী প্রকল্পটিতে আবাসন সংকট সমাধানের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
নগরীর সমাজ সেবা কেন্দ্রে ২০০১ সালে স্থাপন করা হয়েছিল বয়স্কদের জন্য আবাসন কেন্দ্র শান্তিনিবাস। ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় । এখন বৃদ্ধাদের জন্য তৈরী সেই নিবাসে চালু করা হয়েছে সেফহোম। নানান সংকটে সেখানে মোটেই ভালো নেই শিশু-কিশোরীরা।
বরিশাল সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম সেফহোমে আবাসিক সংকটের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন সরকারী উচ্চ পর্যায়ে এ ব্যাপারের যোগাযোগের জন্য বিভাগীয় কমিশনার পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছন।
বরিশাল সেফহোমে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ কিশোরী। প্রেম কিংবা বাল্য বিয়ের কারনে অথবা অভিমান করে বাড়ী ছেড়েছে তারা। সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার কারনে তাদের অনেকেই বাড়ী ফিরতে চায়না।
এ সব হেফাজতীদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলিং করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কাজটি করছেন সেফহোম কর্তৃপক্ষ। একে আরও মানসম্মত এবং দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিশ্চিত করতে আজ বুধবার নগরীর বিডিএস হলে প্রকল্প পরিচিতি সভার আয়োজন করে বরিশাল সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও স্পিড ট্রাস্ট্র।
সভায় নানান প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হয় ।
প্রধান অথিতি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. নূরুল আমিন বলেন, বিভিন্ন কারনে দেশে এখনো ৪৩ ভাগ নারী নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। এর বেশিভাগই হচ্ছে যৌতুকের বলি। তিনি এর থেকে পরিত্রানের জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিরোধ গড়ে তোতার আহবান জানান।
বিশেষ অথিতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পলাশ কান্তি বালা এসব ভিকটিমদের কাউন্সিলিং করার সুবিধা নেই জেনে বলেন, যতদিন ভালো কাউন্সিলর পাওয়া না যাবে ততদিন ইন্ডিয়ান টিভিতে প্রচারিত ‘ক্রাইম পেট্রোল’ সিরিয়ালগুলো রেকর্ড করে দেখানোর জন্য প্রস্তাব দেন তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তা’র স্পিডট্রাস্ট এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। স্পিডট্রাস্টের মিশন হেড এএইচ এম শামসুল ইসলাম দিপু বলেন,সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারনে সেফহোমগুলোতে সেবার মান বাড়েনি এতদিন। এখন সরকারের সাথে কাজ করে তারা সেবার মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন।
এএইচএম শামসুল ইসলাম দিপুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা করেন, মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক,এসএম ইকবাল, ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, আনোয়ার জাহিদ, শুভংকর চক্রবর্তী, নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা বেগম প্রমুখ।




মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।