বরিশাল নগরীতে পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি আজও

,

বিভাগীয় নগরী বরিশালে অফিস আদালত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে গাড়ি। আর সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবার কারনে দূর এলাকার লোকজনও নানান কাজে সরাসরি গাড়ীতেই আসছেন নগরীতে। মোটর সাইকেল যে বেড়েছে কত তার কোন হিসেব নেই। অথচ এসবের জন্য কোন পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ী থামিয়ে কাজ সারতে হয় সবাইকে। রাস্তার ২ পাশে এভাবে পার্কিং করার কারনে হাটার পথ যেমন বাধাঁগ্রস্থ হচ্ছে, তেমনি যানজট লেগেই আছে। নগরীর প্রধান সড়কের পাশেই রয়েছে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শোরুম, বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডাক্তারদের চেম্বার, রেস্তোরা, ব্যাংক, বীমা ,ব্রোকারেজ হাউস , মেৰাইল ফোন সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ন সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর ২/১টি ছাড়া অধিকাংশ ভবনে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা নেই ।
নগরীর প্রধান এলাকা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক (সদর রোড) , হেমায়েতউদ্দিন সড়ক, ফজলুল হক এভিনিউ, কবি জীবনানন্দ দাশ সড়ক, হাসপাতাল রোড, চক বাজার, কাটপট্টি এলাকায় যানজট লাগে দিনে কয়েকবার। নগরীর সংবাদকর্মী শামীম জানান, মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে তাদের খুবই ঝামেলায় পরতে হয়। তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে যেমন পার্কিং ব্যবস্থা নেই, তেমনি নেই আশেপাশেও। রাস্তায় মোটর সাইকেল রেখে চুরির ভয় নিয়ে কাজ করতে হয় বলেন তিনি। গোড়াচাঁদ দাস রোডের লিমা রহমানের বাসা থেকে পায়ে হাটার পথে ছেলের উদয়ন স্কুল । ওই স্কুলে পৌছাঁতে তাকে প্রতিদিন যানজটের মুখে পড়তে হয়। পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ী নিয়ে স্কুল গেট পর্যন্ত যেতে বাধ্য হয় গাড়ীওয়ালারা। এরফলে জট আর খুলতে চায়না জানান সেখানের অভিভাবকরা। রিকসগুলোরও একই অবস্থা ।
এই পার্কিং ব্যবস্থা যারা করবে সেই সিটি কর্পোরেশনেরও নিজস্ব পার্কিং সিস্টেম নেই। কর্পোরেশনের সামনের রাস্তায় মার্কিং করে কর্মকর্তাদের গাড়ী পার্কিং এর স্থান করা হয়েছে । এ ব্যাপারে সিটি কর্পেরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিকুল হক বলেন, জনস্বার্থে করা উচিৎ, তবে ফান্ড না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছেনা। অগ্রাধিকার ভিত্তিকে আমাদের কাজ করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন এখনও ট্রাক টার্মিনাল করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে পুলিশের সাথে বিরোধ থাকায় তাদের নগর ভবন নির্মান প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। ভবনের সেই এক্সটেনশন অংশে কর্পোরেশনের নিজস্ব , অতিথি এবং কর্পোরেশনে আগতদের গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে বলেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, মাল্টিস্টোরেড ভবন নির্মান করতে হলে প্লানে বেজমেন্ট এবং গ্রাউন্ডফ্লোরে পার্কিং ব্যবস্থা রাখার নিয়ম ২ বছর আগে চালু করা হয়েছে। এরফলে পার্কিং সমস্যা দূর হবে জানান তিনি। করেছে নগরীতে বেড়ে ওঠা রেন্ট-এ কারের ব্যবসায়ীরা সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিস্টদের ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্নস্থানে গড়ে তুলেছে অবৈধ পার্কিং এরিয়া।



পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন। আমাদের সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে এখানে নিবন্ধন করুন।


Get Facebook Like
পাতার শুরুতে